শিমজাতীয় খাবারের চমক: মস্তিষ্ক ভালো রাখে, মন প্রফুল্ল করে, কমায় ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সঠিক খাবারের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে গবেষকরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শিমজাতীয় খাবার (বিনস) যুক্ত করলে তা শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্যও দারুণ উপকারী হতে পারে। এমনকি এটি মন ভালো রাখতে, কাজের আগ্রহ বাড়াতে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।
The Food Foundation-এর তথ্য অনুযায়ী, শিমজাতীয় খাবার এক ধরনের ‘সুপারফুড’, যা একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং খরচ—এই তিন দিক থেকেই উপকারী। হারিকট, ক্যানেলিনি, ব্ল্যাক, কিডনি, সয়াবিনসহ বিভিন্ন ধরনের বিনস আমাদের শরীরে ফাইবারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ দৈনিক প্রয়োজনীয় ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করেন। অথচ বিনসে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও জিঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা মস্তিষ্ক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। নিয়মিত অল্প পরিমাণেও বিনস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে—ফলে মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্স্বাস্থ্য ও বিপাকক্রিয়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের সুস্থতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন বিনস শরীরের প্রদাহ কমায়, হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কেও।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও বার্ধক্য বিষয়ক গবেষক Dr Oliver Shannon বলেন, “হৃদ্যন্ত্রের জন্য যা ভালো, সাধারণত তা মস্তিষ্কের জন্যও ভালো।”
অন্যদিকে পুষ্টিবিদ Rebecca Tobi মনে করেন, বিভিন্ন দেশের রান্নায় বিনসের ব্যবহার আমাদের নতুন স্বাদ ও পুষ্টির দিগন্ত খুলে দিতে পারে। স্প্যানিশ, লেবানিজ, মেক্সিকান বা ভারতীয় রান্নায় এই উপাদানটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী এই শিমজাতীয় খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর ও মস্তিষ্ক—দুটিই উপকৃত হয়। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে অল্প হলেও বিনস রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


