লাস ভেগাসের বিশ্ববিখ্যাত স্ফিয়ার প্রেক্ষাগৃহে চলছে ১৯৩৯ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র দ্য উইজার্ড অব অজ-এর এক নতুন রূপ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি ৭০ মিনিটের এই ৪ডি ও এআই-সমৃদ্ধ সংস্করণটি গড়ে তুলেছে ইতিহাসের অন্যতম সফল প্রদর্শনী হিসেবে।

সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ উদ্বোধন হওয়া স্ফিয়ার বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম্বুজাকৃতি ভবন। প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই ভেন্যুতে রয়েছে বিশাল উচ্চ-সংজ্ঞার এলইডি পর্দা, শব্দ ও কুয়াশার বিশেষ প্রভাব এবং কম্পন অনুভবযোগ্য আসন। এর লক্ষ্য হলো কনসার্ট, ক্রীড়া এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের জন্য এক সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করা।

🎟️ আর্থিক সাফল্যের চমকপ্রদ পরিসংখ্যান:

  • প্রতিদিন মাত্র তিনটি প্রদর্শনী থেকেই আয় প্রায় ২০ লাখ ডলার
  • প্রতিটি শোতে দর্শকসংখ্যা ,০০০,০০০ জন, টিকিটপ্রতি গড় মূল্য প্রায় ২০০ ডলার
  • মুক্তির আগেই বিক্রি হয়েছিল ,২০,০০০ টিকিট
  • ব্লুমবার্গ-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রদর্শনী শেষ হওয়ার আগেই আয় পৌঁছাতে পারে বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে।

স্ফিয়ারের সঙ্গে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের চুক্তি অনুযায়ী চলচ্চিত্রটি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত প্রদর্শিত হতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদে আরও আয় নিশ্চিত করছে। এদিকে, হলিউড রিপোর্টার জানিয়েছে, এই চলচ্চিত্রকে স্ফিয়ারের জন্য মানানসই করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার—যার মধ্যে রয়েছে বিশাল এক জোড়া রুবি স্লিপার, যা আকারে প্রায় বাড়ির সমান। তবে বিনিয়োগটি অত্যন্ত সফল বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই স্ফিয়ার নিজেদের কাছে রাখতে পারছে।

View of ‘Wizard of Oz at The Sphere’

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস সম্প্রতি সংগ্রহ করেছে দ্য উইজার্ড অব অজ–এর আসল চলচ্চিত্রসংক্রান্ত বহু মূল্যবান সম্পদ। এর মধ্যে রয়েছে সুরকার হ্যারল্ড আর্লেন ও গীতিকার ই.ওয়াই. “ইয়িপ” হারবার্গ-এর হাতে লেখা ৩৫টি সঙ্গীত-রচনা পাণ্ডুলিপি, বিখ্যাত গানগুলোর খসড়া ও গানের তালিকা, এমনকি পরিচালক মারভিন লেরয়-এর চিঠিপত্র। সবচেয়ে মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে পাওয়া গেছে কিংবদন্তি গান ওভার দ্য রেইনবো–এর একমাত্র লিরিকস খসড়া।

✨ সব মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, কনসার্ট স্ফিয়ারের প্রধান আকর্ষণ হলেও, ভবিষ্যতে এমন চলচ্চিত্র প্রদর্শনীই হয়তো ভেন্যুটিকে সর্বোচ্চ সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে।