একটি বিস্ময়কর মহাকাশ অভিযানে দুটি উপগ্রহের নিখুঁত সমন্বয়ে বিজ্ঞানীরা সূর্যের বাইরের আবরণ ‘করোনা’ পর্যবেক্ষণে এক অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA) পরিচালিত এই মিশনে সূর্যের প্রখর আলোকে উপেক্ষা করে গবেষণার একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

সাধারণত সূর্যের চারপাশের হালকা আবরণ, অর্থাৎ করোনা, শুধুমাত্র পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময়ই স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কিন্তু এই ধরনের গ্রহণ বছরে একবার কিংবা দুইবার ঘটে এবং তা মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। তাই বিজ্ঞানীদের গবেষণার সুযোগ অনেকটাই সীমিত।

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে ESA গত বছর মহাকাশে পাঠায় ‘Proba-3’ মিশন। এই অভিযানে ছিল দুটি উপগ্রহ – একটি ‘Coronagraph’ এবং অন্যটি ‘Occulter’। সম্প্রতি এরা পৃথিবীর কক্ষপথে একে অপরের থেকে মাত্র ১৫০ মিটার (৪৯২ ফুট) দূরত্ব বজায় রেখে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিখুঁতভাবে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে, এক উপগ্রহ সূর্যের আলোকে ঢেকে দিয়ে অন্যটির সামনে একটি কৃত্রিম সূর্যগ্রহণ সৃষ্টি করেছে – যা বিজ্ঞানীদের জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

বেলজিয়ামের রয়্যাল অবজারভেটরির প্রধান গবেষক আন্দ্রেই ঝুকভ এ সম্পর্কে বলেন, “আমরা চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। প্রথম চেষ্টাতেই সফল হওয়া ছিল অত্যাশ্চর্য। এই কৃত্রিম গ্রহণ আমাদের সেই ছবিগুলো দিয়েছে, যা প্রাকৃতিক গ্রহণে পাওয়া যায়।”

ঝুকভ আরও জানান, প্রাকৃতিক গ্রহণ যেখানে বছরে একবার হয়, Proba-3 প্রতি ১৯.৬ ঘণ্টার কক্ষপথে একবার করে কৃত্রিম গ্রহণ তৈরি করতে পারে। এছাড়া, এটি একটানা ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত গ্রহণের অবস্থা বজায় রাখতে পারে – যা গবেষণার জন্য বিরাট সুযোগ।

এই মিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ‘Coronal Mass Ejections’ (CME) – সূর্য থেকে বিস্ফোরিত প্লাজমা ও চৌম্বক তরঙ্গ – সম্পর্কে আরও গভীর তথ্য সংগ্রহ। এসব ঘটনা অরোরা বোর্নালিসের সৌন্দর্য সৃষ্টি করলেও, একই সঙ্গে তা যোগাযোগ, বিদ্যুৎ এবং নেভিগেশন সিস্টেমের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

এই প্রাচীন সূর্যকে জানার পথে Proba-3 এর সাফল্য মহাকাশ বিজ্ঞানের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।