রিসাইক্লিংয়ে রোমানিয়ার বিস্ময়কর সাফল্য
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে একসময় রিসাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর তালিকায় ছিল রোমানিয়া। তবে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে দেশটি রীতিমতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নতুন ডিপোজিট রিটার্ন স্কিম চালুর পর পানীয় পণ্যের প্যাকেজিং সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের হার লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ শতাংশে।
রোমানিয়ার এই ব্যবস্থাটি অত্যন্ত সহজ ও কার্যকর। কোমল পানীয় কিংবা মদ্যপ পানীয় কেনার সময় প্রতিটি বোতল বা ক্যানের জন্য গ্রাহককে অতিরিক্ত ০.৫০ রোমানিয়ান লিউ (প্রায় ১১ সেন্ট) দিতে হয়। ব্যবহারের পর বোতল বা ক্যান পরিষ্কার ও অক্ষত অবস্থায় নির্দিষ্ট সংগ্রহকেন্দ্রে—সাধারণত যে দোকান থেকে পণ্যটি কেনা হয়েছিল সেখানেই—ফেরত দিলে সেই টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের দেশ রোমানিয়ায় এই স্কিম চালু হয় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নাগরিকরা মোট ৭৫০ কোটি পানীয়ের কনটেইনার ফেরত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে RetuRO, যা সরকার ও পানীয় প্যাকেজিং উৎপাদকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি পিইটি বোতল, ২০০ কোটি ধাতব ক্যান এবং ১৫০ কোটি কাচের বোতল। এই প্রক্রিয়ায় ৫ লাখ টনের বেশি উচ্চমানের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। RetuRO–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমা ওয়েব বলেন, “বর্তমানে আমরা বিশ্বে সবচেয়ে বড় পূর্ণাঙ্গ ডিপোজিট রিটার্ন সিস্টেম পরিচালনা করছি। এটি সত্যিই শূন্য থেকে নায়ক হয়ে ওঠার গল্প।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোমানিয়ার সাফল্যের পেছনে একটি বড় কারণ হলো দেরিতে শুরু করা। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ রাউল পপ জানান, দেরিতে শুরু করার ফলে রোমানিয়া সর্বাধুনিক সফটওয়্যার ও ট্রেসেবিলিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছে। অন্য অনেক দেশ এখনো পুরোনো ব্যবস্থার জড়তায় আটকে আছে বলে তিনি মনে করেন।
রোমানিয়ার ‘রিটার্ন-টু-রিটেইল’ মডেল অনুযায়ী, যেসব দোকান পানীয় বিক্রি করে তাদেরকে রিভার্স ভেন্ডিং মেশিন বসাতে হবে অথবা হাতে হাতে বোতল ও ক্যান গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি দোকানগুলোকে আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হয়, যাতে প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ মেটানো যায়। RetuRO এই কার্যক্রম থেকে অর্জিত সব লাভ আবার সিস্টেম পরিচালনায় বিনিয়োগ করে।
পানীয়ের প্যাকেজিংয়ে সাফল্যের পর এখন এই ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রোমানিয়ার প্রথম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এনজিও ‘ইকোকেটা’-এর প্রতিনিধি আলেক্সান্দ্রা তুতুইয়ানু বলেন, “যদি একটি পানির বোতল ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে ভিনেগারের বোতল, কাচের জার কিংবা দুধের কার্টনও এর আওতায় আনা সম্ভব।”
রোমানিয়ার এই অভিজ্ঞতা এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে।


