যাঁরা নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, তাঁদের জন্য সুসংবাদ—প্রাকৃতিকভাবে এই সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে কিউই ফল। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিউই ফল খাওয়া কৃত্রিম ফাইবার বা ব্যয়বহুল প্রোবায়োটিকের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

কিংস কলেজ লন্ডন–এর একদল গবেষক তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণায় জানিয়েছেন, খনিজসমৃদ্ধ পানি, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড সাপ্লিমেন্ট এবং কিউই ফল কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে দারুণ ফল দেয়। তাঁদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব হিউম্যান নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকস-এ।

প্রধান গবেষক ড. ইরিনি ডিমিডি বলেন, “অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধান হিসেবে শুধু ফাইবার বাড়ানোর পরামর্শ দেন, কিন্তু ফলমূল ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণই বেশি কার্যকর।” তিনি পরামর্শ দেন, দিনে দুই থেকে তিনটি কিউই ফল বা আট থেকে দশটি প্রুন (শুকনো বরই) খেলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যেতে পারে।

কিউই ফলের খোসা ছাড়িয়ে বা খোসাসহ—দুইভাবেই খাওয়া যায়। ড. ডিমিডি বলেন, “খোসা ছাড়িয়ে খেলে যেমন উপকার পাওয়া যায়, খোসাসহ খেলে আরও বেশি ফাইবার পাওয়া সম্ভব।”

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ম্যাগনেসিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা স্বাভাবিকভাবে হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড সাপ্লিমেন্ট কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য নয়, কিউই ফল ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা শরীরের সার্বিক সুস্থতায় সহায়ক।

তাই পরের বার হজমে সমস্যা হলে ওষুধ নয়, বরং একটি টাটকা কিউই ফলই হতে পারে আপনার প্রাকৃতিক চিকিৎসা

🥝 ছোট্ট ফল, কিন্তু দারুণ কার্যকর — প্রকৃতির নিজস্ব হজম সহায়ক।