ইউরোপের আল্পস পর্বতের নিচ দিয়ে অস্ট্রিয়া ও ইতালিকে যুক্ত করা বিশ্বের দীর্ঘতম রেল টানেল নির্মাণে বড় এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আল্পসের ১,৪০০ মিটার (প্রায় ৪,৬০০ ফুট) নিচে শিলা কেটে এক বিশাল ড্রিল মেশিন টানেলের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে, যার মধ্য দিয়ে চলবে ইউরোপের নতুন উচ্চগতির ট্রেন নেটওয়ার্ক।

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি উপস্থিত ছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে। টানেলটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বৃহৎ রেল প্রকল্পের অংশ, যা শেষ হলে ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি থেকে ইতালির সিসিলি দ্বীপের পালেরমো পর্যন্ত চলবে — প্রায় ৩,৭৪৩ কিলোমিটার দূরত্বে। প্রকল্পটি চালু হওয়ার কথা ২০৩২ সালে

৮.৮ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে নির্মিত ব্রেনার বেস টানেল হবে বিশ্বের দীর্ঘতম ভূগর্ভস্থ রেল টানেল— ৩৪ মাইল (৫৫ কিমি) দীর্ঘ। এটি শুধু ইতালি ও অস্ট্রিয়ার যাত্রী পরিবহনকেই নয়, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকেও বদলে দেবে। এতে ট্রাক নির্ভর মালবাহী পরিবহন কমে পরিবেশবান্ধব রেল পরিবহন বৃদ্ধি পাবে।

টানেল সম্পূর্ণ হলে ভেরোনা থেকে মিউনিখের যাত্রা সময় ৫ ঘণ্টার বেশি থেকে নেমে আসবে মাত্র ২.৫ ঘণ্টায়, আর মিলান থেকে প্যারিসের সময় কমবে এক-তৃতীয়াংশে, অর্থাৎ প্রায় ৪.৫ ঘণ্টা। একইসঙ্গে জেনোয়া শহরও রেল যোগাযোগে যুক্ত হবে ইতালির আর্থিক রাজধানী মিলানের সঙ্গে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন,

“কোনো প্রকল্পই এত বড় নয় যে তা আমরা হাতে নিতে পারি না; ইউরোপের ঐক্য ও উদ্ভাবনের প্রতীক এই রেল প্রকল্প।”

🚄 এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে ইউরোপের পরিবহন মানচিত্রে নতুন যুগের সূচনা ঘটবে — দ্রুত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার এক দৃষ্টান্ত হয়ে।