নবায়নযোগ্য শক্তি সংরক্ষণে নতুন মাইলফলক: বালির ব্যাটারি
ফিনল্যান্ডে চালু হলো বিশ্বের বৃহত্তম বালির ব্যাটারি, যা সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ থেকে সঞ্চিত তাপ শক্তি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের মুহূর্তে তা সরবরাহ করতে পারছে। এই ব্যাটারির সাহায্যে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের জেলা গরম পানির নেটওয়ার্কে (District Heating Network) আর তেল ব্যবহার করতে হবে না, ফলে কার্বন নির্গমন প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
১৩ মিটার উঁচু এবং ১৫ মিটার চওড়া এই বালির ব্যাটারিটি তৈরি করেছে Polar Night Energy নামের একটি ফিনিশ কোম্পানি। তারা প্রমাণ করেছে, প্রচলিত ব্যয়বহুল লিথিয়াম ব্যাটারির চেয়ে বালি অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও টেকসই একটি বিকল্প, বিশেষ করে বড় পরিসরে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। কারণ সৌর ও বায়ু শক্তি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হলেও তা সবসময় ব্যবহারযোগ্য নয় — মূল চ্যালেঞ্জ হলো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
কিভাবে কাজ করে বালির ব্যাটারি?
এই ব্যাটারির মূল কাঠামো একটি উঁচু টাওয়ার, যা ভরা থাকে কম মানের (low-grade) বালি দিয়ে। সৌর বা বায়ুশক্তি থেকে বাড়তি পাওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বালিকে উত্তপ্ত করা হয় রেজিস্টিভ হিটিং (resistive heating) প্রক্রিয়ায় — অর্থাৎ, যখন বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় এমন কোনো পরিবাহী পদার্থ দিয়ে, যা সুপারকন্ডাক্টর নয়, তখন ঘর্ষণ থেকে তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ এক্সচেঞ্জারের মাধ্যমে বালির ভিতরে গরম বাতাস সঞ্চালনের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়।
বালির এই বিশাল ভাণ্ডারে তাপমাত্রা ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রাখা সম্ভব হয় এবং তা কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত তাপ ধরে রাখতে পারে। যখন প্রয়োজন হয়, তখন এই গরম বাতাস বের করে গরম পানির সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রয়োগ করা হয়, যা শীতকালে বিশেষভাবে কার্যকর।
একটি শহরের মাসব্যাপী তাপের সংরক্ষণ:
Polar Night Energy জানায়, এই ব্যাটারির তাপ সঞ্চয় ক্ষমতা একটি শহরের গ্রীষ্মে এক মাসের এবং শীতে এক সপ্তাহের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। কোম্পানিটি বর্তমানে ফিনল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তির আলোচনায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য শক্তি নির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে এই উদ্ভাবন হতে পারে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।


